কোনো শিশুকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করা যাবে না !

 

শিশু হত্যার পরিণতি: ইসলাম নারী, কন্যাসন্তান ও শিশুর সুরক্ষায় বিধান করে দিয়েছে যে যুদ্ধের সময়ও এদের ওপর আক্রমণ করা যাবে না। পবিত্র কোরআনে রয়েছে, রোজ কিয়ামতে আল্লাহ এর কৈফিয়ত তলব করবেন: ‘যখন জীবন্ত সমাধিস্থ কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, কী অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?’ (সুরা-৮১ তাকভির, আয়াত: ৮-৯)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্ববান এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। প্রতিটি মানুষ তার পরিবার রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে দায়িত্ববান; তাকে এ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। স্ত্রী তার স্বামীর সম্পদ ও সন্তানের ব্যাপারে দায়িত্ববান; সে এসবের রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (বুখারি ও মুসলিম, মিশকাত, পৃষ্ঠা: ৩২০)। শিশুদের শারীরিক শাস্তি দেওয়া বৈধ নয় শিশুদের প্রতিপালন, শিক্ষা, সংশোধন ও গঠন বিষয়ে নির্দেশনাও ইসলামে রয়েছে। শিশুর প্রথম শিক্ষালয় তার পরিবার। এরপর মক্তব বা পাঠশালা। শিশুর সুশিক্ষার জন্য পিতা-মাতা, অভিভাবক ও শিক্ষকের ভূমিকা প্রধান। তবে এ ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে তা হলো শিশুর মাথায় আঘাত করা যাবে না। মুখমণ্ডল বা চেহারায় চপেটাঘাত করা যাবে না। কান টানা বা কান মলা ও নাক মলা যাবে না। চামড়া মোচড়ানো ও গাল টানা যাবে না।। শিশুদের প্রহারের জন্য কোনো দড়ি, ছড়ি, লাঠি, কাঠি, বেত, স্কেল ইত্যাদি উপকরণ ব্যবহার করা যাবে না। ডাস্টার, চক, মার্কার পেন ইত্যাদি ছুড়ে মারা যাবে না। রাগের বশীভূত হয়ে শাস্তি প্রদান করা যাবে না। শিশুদের সঙ্গে যেসব আচরণ করা যাবে না শিশুদের জন্ম নিয়ে অশোভন কথা বলা যাবে না। শিশুদের বাবা-মাকে নিয়ে আপত্তিকর কথা বলা যাবে না। শিশুদের জন্মস্থান বা এলাকা নিয়ে অসম্মানজনক কথা বলা যাবে না। শিশুদের বংশ, জাত, বর্ণ, পদবি নিয়ে উপহাস করা যাবে না। শিশুদের শারীরিক গঠন, আকার-আকৃতি ও গায়ের রং নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করা যাবে না। শিশুদের বিশেষ কোনো স্বভাব বা মুদ্রাদোষ নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করা যাবে না। শিশুর জীবনে ঘটে যাওয়া কোনো অযাচিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় উল্লেখ করে তাকে লজ্জা দেওয়া যাবে না। শিশুদের মেধা নিয়ে কটু মন্তব্য করা যাবে না। কোনো শিশুকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা যাবে না। শিশুদের পশু বা প্রাণীর নামে অভিহিত করা যাবে না। শিশুদের জন্য এমন বাক্য বা এমন শব্দ ব্যবহার করা যাবে না, যা সাধারণত কোনো প্রাণী বা পশুর জন্য ব্যবহৃত হয়। শিশুর সঙ্গে খেলার ছলে তাকে বিরক্ত বা বিব্রত করা যাবে না। ইসলামের শিক্ষা তথা আল্লাহ তায়ালার ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেওয়া বিধিবিধান মেনে চললে সমাজে শিশু ও নারী নির্যাতন বন্ধ হবে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আপনি কার জন্য প্রিয় হবেন ?